![]()


স্টাফ রিপোর্টার :
সিলেটের আলোচিত জোড়া খুন মামলায় কয়েকজন শ্রমিক নেতাকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে—এমন সংবাদ প্রকাশের পর এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনও চলমান এবং সংশ্লিষ্ট আসামিদের কাউকেই চূড়ান্তভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) এসএমপির মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমে ‘প্রভাব, নাকি প্রমাণের অভাব? সিলেটে জোড়া খুনের আসামি শ্রমিক নেতাদের অব্যাহতির সুপারিশ’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে মামলার তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কয়েকজন আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, তা সঠিক নয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২৭ এপ্রিল সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমা থানাধীন কদমতলী বাস টার্মিনালে সিলেট জেলা মালিক সমিতির কার্যালয়ের সামনে সংঘটিত সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৬ মে দক্ষিণ সুরমা থানায় হত্যা, ভাঙচুর ও দাঙ্গাসহ বিভিন্ন ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় ২৯ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়।
এসএমপি জানায়, মামলার তদন্ত চলাকালে কয়েকজন এজাহারভুক্ত আসামি দাবি করেন, ঘটনার সময় তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এবং এ বিষয়ে তারা পুলিশ কমিশনারের কাছে আবেদন করেন। পরে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩এ ধারার বিধান অনুযায়ী তাদের বিষয়ে তদন্ত করা হয়।
তদন্তে এজাহারভুক্ত ১ নম্বর আসামি মইনুল ইসলাম, ২ নম্বর আসামি আলী আকবর রাজন, ৬ নম্বর আসামি আব্দুস শহীদ এবং ৭ নম্বর আসামি শামসুল হক মানিক-এর বিরুদ্ধে ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিতি বা ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রাথমিক কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানায় পুলিশ। এছাড়া তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় তাদের অবস্থান ঘটনাস্থল থেকে ভিন্ন স্থানে ছিল বলেও প্রতীয়মান হয়েছে।
এ পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩এ ধারায় অন্তর্বর্তীকালীন পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করেন, যা যথাযথ কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করেছে।
এসএমপি আরও স্পষ্ট করে জানায়, এটি কোনো চূড়ান্ত অব্যাহতি নয়। মামলাটি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। পরবর্তী তদন্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের নাম চূড়ান্ত পুলিশ প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রভাবের প্রতি পক্ষপাত না করে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত পরিচালনা করে থাকে। প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি থেকে রক্ষা করাও পুলিশের তদন্ত কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এ কারণে প্রকৃত তথ্য যাচাই-বাছাই করে সংবাদ প্রকাশের জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এসএমপি।